এই বাজেট আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছি: ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১৫ জুন, ২০১৯ ১৭:৪৬:১৬
#

এটি জনগণের বাজেট নয়। এটি একটি অদূরদর্শী ও দুর্বলভাবে প্রণীত বাজেট যা দেশের প্রকৃত সমস্যা মােকাবিলার কোন চেষ্টা নেই। বর্তমানে দেশকে যারা লুটেপুটে খাচ্ছে এবং যারা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করছে বাজেট তাদের সুবিধার জন্য তৈরি হয়েছে। তাই এই বাজেট আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছি বলেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।


শনিবার (১৫জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে গণফোরামের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


গণফোরামের সভাপতি বলেন, এই প্রতিনিধিত্বহীন ও অনির্বাচিত সরকারের বাজেট যে আমাদের নাগরিকদের ইচ্ছার প্রতিফলন নয় এবং এটি যে দেশের প্রয়ােজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়নি এটাতে অবাক হওয়ার কোনাে কারণ নেই। সুতরাং একটি সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়ােজন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


তিনি আরও বলেন, দেশবাসীর সম্মুখে উপস্থিত কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মােকাবেলায় প্রয়ােজনীয় কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণে কেবল সেই নির্বাচিত সরকারেরই যথার্থ আত্মবিশ্বাস থাকবে ও এই ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থণ থাকবে।


ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।


ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, সরকার এটিকে ‘ স্মার্ট বাজেট বলে অভিহিত করছে যার মানে দেশের প্রকৃত সমস্যা থেকে জনগণের মনােযােগ সরানাের জন্য। এটিতে চটকদার বাড়তি কিছু বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে।


এই বাজেটে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য , দারিদ্র্য ও বেকারত্বের মতাে গুরুতর সমস্যা মােকাবেলায় কোনাে উদ্যোগ নেই। বাজেটটিতে দেশের জনগণের স্বার্থহানি ঘটিয়ে গুটিকয়েক ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির স্বার্থ হাসিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


রেজা কিবরিয়া বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে বাণিজ্য বিরােধ নিয়ে যে শংঙ্কা বিরাজমান তার ফলে আমাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। ভুল মুদ্রা বিনিময় হার নীতির কারণে প্রতিযােগিতার সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ধান ও চাল ক্রয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে কৃষিখাতে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।


ব্যাংকিং খাত মন্দ ঋণের প্রভাবে ব্যাপক চাপের মুখে। মন্দ ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ ১১.৩ শতাংশে ছুঁয়েছে । অঘােষিত ঋণ খেলাপ যােগ করলে বাস্তবে এর হার অনেক বেশি হবে। রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার এবং বিদেশি সহায়তা হ্রাস পাওয়ায় বাজেটের ওপর চাপ বেড়েছে যার ফলে সরকার দেশিয় ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে অনেক বেশি হারে ঋণ নিচ্ছে। এতে বেসরকারি ঋণের সুদের হারও বেড়েছে , পাশাপাশি ব্যাংকগুলাে ঋণ দেওয়ার হারও কমিয়ে দিয়েছে।


তিনি আরও বলেন, এই বাজেটটিতে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর কোনােটিকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি এবং এগুলাে সাময়িক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় যেসব ঝুঁকি তৈরি করেছে সেসবও বিবেচনা করা হয়নি । বাজেটটিতে এছাড়া কালাে টাকা সাদা করার মতাে সামাজিক মান্যকারী রাজনীতিক , পেশাজীবী , সরকারি - বেসরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের ক্ষুব্ধ করবে ।
এসএম/এমআর

Print