সন্ত্রাস ও মাদকের হুমকি অনুভব করছি: ডিএমপি

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১৫ জুন, ২০১৯ ২১:০৭:৩৪
#

রাজধানীর ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের কাজটিতে ভাটা পড়ায় ফের জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদী হামলার হুমকি অনুভব করছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।


শনিবার (১৫ জুন) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানায় ডিএমপি।


কমিশনার বলেন, ‘সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিআইএমএস) মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করার কারণে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ইদানীং আমরা লক্ষ করছি, তথ্য সংগ্রহের কাজটি ঢিলা হয়ে গেছে।


অনেক ভাড়াটিয়া বা নাগরিকরা এখন তথ্য দিচ্ছে না। আমাদের পুলিশের মধ্যেও একটা ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ করছি। যে কারণে ইদানীং আমরা আবার সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের একটি হুমকি অনুভব করছি। এই প্রেক্ষাপটে কাজটি আমরা আবার শুরু করেছি।’


এদের মধ্যে দুই লাখ ৪১ হাজার ৫০৭ জন বাড়িওয়ালা, ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯৪ জন ভাড়াটিয়া, পরিবারের সদস্য ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮২১ জন, মেস সদস্য এক লাখ ২১ হাজার ৪০ জন, চালক ও গৃহকর্মী ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৪ জন রয়েছেন।


অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ঢাকায় বসবাসরত নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি আরো জোরদার করতে ১৫ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ পালন করছে ডিএমপি।


এরমধ্যে ঢাকায় ৫০টি থানাকে ৩০২টি বিটে ভাগ করে নাগরিকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করবে। এরপর ২১ জুন থেকে ডিএমপি সদর দফতর থেকে আটটি টিম আট বিভাগে ভাগ হয়ে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ক্রস চেক করবে। কোথাও কোনো ত্রুটি পেলে তারা সংশ্লিষ্ট বিট পুলিশকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসবে।


গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করে সিআইএমএস সফওয়্যারে সংরক্ষণ শুরু করে ডিএমপি।


অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় সিআইএমএস সফওয়্যারের কিছু সফলতার চিত্র তুলে ধরেন।

এসময় তিনি বলেন, হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর আমরা নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করি। যারা পরিচয় গোপন করে ঢাকায় বাড়ি ভাড়া নিতে চান তারা এখন ভাড়া নিতে পারছেন না। এছাড়া এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভিকটিম, অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কারণ সংরক্ষিত তথ্যে একজন ব্যক্তির জন্য আলাদা ইনডেক্স রয়েছে। ফলে একজন ব্যক্তি এলাকা পরিবর্তন করলেও আমরা তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।


আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ডিএমপির প্রত্যেকটি থানার যে সাত-আটটি করে বিট রয়েছে, সেই বিটভিত্তিক কাজগুলো আমরা ভাগ করে দেব। যে বিটে আট-দশজন পুলিশ দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন তাঁরা ওই এলাকায় প্রত্যেকটি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করবেন। সবার সঙ্গে কথা বলে যারা এই ফরম জমা দেয়নি তাদেরকে ফরম সরবরাহ করবেন এবং তথ্য নিয়ে এসে আমাদের সিস্টেমে সংযুক্ত করবেন।’


নগরবাসীকে তথ্য দিতে অনুরোধ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আপনার তথ্য পুলিশের কাছে জমা দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করুন, নিজে নিরাপদ থাকুন, নগরবাসীকে নিরাপদ রাখুন। পুলিশ ও নাগরিকদের যৌথ অংশীদারির ভিত্তিতে টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব।’


ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য আদালতের একটি নির্দেশ ছিল, নাগরিকদের নিরাপত্তা বা অপরাধ দমনের জন্য ডিএমপি এই তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষরণ করতে পারবে। কিন্তু শর্ত হলো নাগরিকের তথ্য গোপন রাখতে হবে।


আমরা আদালতের সেই নির্দেশনা মেনে চলছি। গত তিন বছরে কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার হয়নি। আর এটি যাতে না হয় সেদিকে আমাদের পর্যাপ্ত লক্ষ আছে।’


আছাদুজ্জামান মিয়া আরো বলেন, ‘শুধু জঙ্গি অপতৎপরতা নয়, এসব তথ্যের সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের ফলে আমরা অনেক হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি এবং অপহরণ উদঘাটন করতে পেরেছি এবং আমাদের অপরাধ উদঘাটনের পারসেন্টটেন্স শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি। এটির কারণ নাগরিক ডাটাবেজের তথ্য এবং ডিজিটাল তথ্য মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করা।’


অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীতে আমরা হাজার হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছি। এর মাধ্যমে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।


সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের সাহায্যেই আমরা মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটনের কাছাকাছি চলে এসেছি।


বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাতে রাজধানীর উত্তরা-১৪ নম্বর সেক্টরে উবার চালক মো. আরমান (৪২) হত্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরায় উবার চালক খুন হয়েছেন, এটি আমাদের মাথায় আছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।


ওই এলাকায় ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ইন্সটল করা রয়েছে। এরমধ্যে মহাখালী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত এক হাজারের মতো উচ্চক্ষমতা সম্পূর্ণ নাইটভিশন সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।


প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ব্যবহার করে দ্রুতই উবার চালকের হত্যার রহস্য উদঘাটন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


এএস

Print