ভালবাসার স্বরূপ ও স্বার্থকতা

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১৮ জুন, ২০১৯ ১৭:২১:২০
#

ভালোবাসা মূলত একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা। বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে ভালোবাসা। ভালোবাসাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করায় অধিক যুক্তিযুক্ত। আবেগধর্মী ভালোবাসা সাধারণত গভীর হয়।


বিশেষ কারো সাথে নিজের সকল মানবীয় অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া, এমনকি শারীরিক আকর্ষণের বিষয়টিও এই ধরনের ভালোবাসা থেকে পৃথক করার কোন সুযোগ নেই। ভালোবাসা বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন, শ্রষ্টার প্রতি ভালবাসা, কামকেন্দ্রীক ভালবাসা, নিষ্কাম ভালোবাসা, ধর্মীয় ভালোবাসা, আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি ভালবাসা, সত্য-ন্যায়ের প্রতি ভালবাসা ও জীবের প্রতি ভালবাসা ইত্যাদি। আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে যে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত স্নেহ প্রায় সময় খুবই আনন্দদায়ক হতে পারে... এমন কি কোনো কাজ কিংবা খাদ্যের প্রতিও। আর এই অতি আনন্দদায়ক অনুভূতিই হলো ভালোবাসা।


ভালোবাসার সংজ্ঞা অনুমান এবং অন্তরদর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত । অনেকেই ভালোবাসার মত একটি সর্বজনীন ধারণাকে আবেগপ্রবণ ভালোবাসা, কল্পনাপ্রবণ ভালোবাসা কিংবা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ ভালোবাসা এসব ভাগে ভাগ করার পক্ষপাতী নন। তবে এসব ভালোবাসাকে শারীরিক আকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা যেতে পারে। সাধারণভাবে, ভালোবাসাকে একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যা একজন মানুষ অপর আরেকজন মানুষের প্রতি অনুভব করে। কারো প্রতি অতিরিক্ত যত্নশীলতা কিংবা প্রতিক্ষেত্রে কারো উপস্থিতি অনুভব করা ভালোবাসার সাথেই সম্পর্কযুক্ত। অধিকাংশ প্রচলিত ধারণায় ভালোবাসা, নিঃস্বার্থতা, স্বার্থপরতা, বন্ধুত্ব, মিলন, পরিবার এবং পারিবারিক বন্ধনের সাথে গভীরভাবে যুক্ত।


ভালোবাসার সাধারণ এবং বিপরীত ধারণার তুলনা করে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভালোবাসাকে জটিলভাবে বিচার করা যায়। ধনাত্মক অনুভূতির কথা বিবেচনা করে ভালোবাসাকে ঘৃণার বিপরীতে স্থান দেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। ভালোবাসায় যৌনকামনা কিংবা শারীরিক লিপ্সা অপেক্ষাকৃত গৌণ বিষয়। এখানে মানবিক আবেগটাই বেশি গুরুত্ব বহন করে। যদিও ক্ষেত্রে বিশেষে ভালবাসাকে শরীর কেন্দ্রীকই মনে করা হয়। তবে ভালবাসার ক্ষেত্রে এটি একটি অনুসঙ্গ মাত্র; সর্বব্যাপী নয়। বস্তুত, কল্পনাবিলাসিতার একটি বিশেষ ক্ষেত্র হচ্ছে এই ভালোবাসা। ভালোবাসা সাধারণত শুধুমাত্র বন্ধুত্ব নয়। যদিও কিছু সম্পর্ককে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব বলেও অভিহিত করা যায়।


যৌনতার জৈবিক মডেলকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর একটি ড্রাইভ অর্থাৎ তাড়না হিসাবে মনে করা হয় যা অত্যধিক ক্ষুধা বা তৃষ্ণার মতো। হেলেন ফিশার প্রেম বিষয়ে একজন নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ । প্রেমের অভিজ্ঞতাকে তিনি তিনটি আংশিক ওভারল্যাপিং পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ লালসা, আকর্ষণ এবং সংযুক্তিকে এর সাথে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। কামনা হল যৌন বাসনা পূরণ করার জন্য এক ধরনের অনুভূতি । রোমান্টিক আকর্ষণ মূলত নির্ধারণ করে কোন ব্যক্তির সঙ্গী কতটা আকর্ষণীয় তার উপর । আর এই আকর্ষণটা শুধু দৈহিক নয় বরং মনস্তাত্তিকও হতে পারে। তাছাড়া আরও কিছু বিষয় আছে। যেমন, একই সাথে একটি বাড়িতে অবস্থান করা, পিতামাতার প্রতি কর্তব্য, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুভূতিগুলিও জড়িত থাকে। এই তিনটি রোমান্টিক শৈলীগুলির সাথে নিউরাল সার্কিটগুলি, নিউরোট্রান্সমিটার এবং তিনটি আচরণগত নিদর্শন সংযুক্ত সব সময় কার্যকর ভূমিকা পালন করে ।


কামনা হল যৌন বাসনার প্রাথমিক ধাপ যা টেসটোসটাইন এবং এস্ট্রোজেনের মতো রাসায়নিক পদার্থ বর্ধিত ত্যাগ করে। এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ি হয় । আকর্ষণ আরও ওহফরারফঁধষরুবফ এবং রোমান্টিক হয় একটি নির্দিষ্ট সঙ্গীর জন্য। যার মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র লালসা বিকশিত হয়। স্নায়ুবিজ্ঞানের সা¤প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষ মূলত প্রেমে পড়ে যখন তার মস্তিস্ক নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সেটের রাসায়নিক পদার্থ ত্যাগ করে। উদাহরণস্বরূপ, নিউরোট্রান্সমিটার হরমোন, ডোপামিন, নোরপাইনফ্রাইন, এবং সেরোটোনিন এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে । অসঢ়যবঃধসরহব একই ধরনের পদার্থ ত্যাগ করে যার ফলে মস্তিস্কের কেন্দ্রীয় অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে, হার্টের কম্পনের হার বৃদ্ধি পায় , ক্ষুধা এবং ঘুম হ্রাস পায়, এবং উত্তেজনা বেড়ে যায় । গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই পর্যায় সাধারণত দেড় থেকে তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ি হয়।


যহেতু কামনা এবং আকর্ষণ এর পর্যায়গুলিকে অস্থায়ী বলে মনে করা হয়। তাই দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য একটি তৃতীয় পর্যায় প্রয়োজন। সংযুক্তি হল এক ধরনের বন্ধন যার কারণে সম্পর্ক অনেক বছর এমনকি কয়েক দশক বা আজীবন পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সংযুক্তি সাধারণভাবে বিবাহ বা শিশু জন্মদান করার মত অঙ্গীকারগুলির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তাছাড়া পারস্পরিক বন্ধুত্ব বা পছন্দের বিষয়গুলি ভাগ করে নেয়ার কারণেও সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, স্বল্পমেয়াদী সম্পর্কের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ক্ষেত্র বেশি পরিমাণে রাসায়নিক অক্সিটোসিন এবং ভাসপ্রেসিন নির্গত হয়। এনজো ইমানুয়েল এবং তার সহকর্মীরা রিপোর্ট করেন যে প্রোস্টট অণুটি স্নায়ু বৃদ্ধিকারক ফ্যাক্টর (এনজিএফ) নামে পরিচিত, যখন লোকেরা প্রথম প্রেমে পড়ে তখন তার মাত্রা অনেক বেশি থাকে, কিন্তু এক বছর পর তারা আবার পূর্ববর্তী স্তরে ফিরে আসে।


বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান ভালবাসাকে টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে দেখায়। মানুষ সহ অন্যান্য স্তণ্যপায়ী প্রাণী তাদের জীবনকালের দীর্ঘ সময় পিতামাতার সাহায্যের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। এই সময়ে ভালবাসা একটি গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভালোবাসা কিভাবে মানব বিবর্তনের দ্বারা গড়ে উঠেছে এর উপর ভিত্তি করে ভালোবাসার সাথে সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা এবং আচরণ নিয়ে আরও গবেষণা করা যেতে পারে।


ভালবাসা পরস্পর বিশ্বাস ও আস্থার ভিত্তিতে সৃষ্টি হয়। আর তা সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যেই হতে পারে। এই ভালবাসাকে বাস্তবরূপ দিতেই একজন নর ও নারী ঘর বাধে। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তাঁর (আল্লাহর) নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে জুটিসমূহ সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তার কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পারো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়াদ্রতা তৈরী করে দিয়েছেন; নিঃসন্দেহে এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে।” (সূরাহ্ আর রূম, আয়াত-২১)।


অনেক সময় ভালবাসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য নরনারী ঘর বাধলেও তাদের জীবন সুখের হয়ে ওঠেনা। মূলত পরস্পরের প্রতি অনাস্থা, বিশ্বাসহীনতা এবং ভাল বোঝাপড়ার অভাবেই এমন ব্যবধান সৃষ্টি হয় এবং পরস্পর পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। তখন তারা বিকল্প পন্থায় ভালবাসার সুখানুভূতি খুঁজতে থাকে। তারা নিজেরা নিজেকে মুক্ত বিহঙ্গের মত ভাবতে শুরু করে। এমতাবস্থায় এক সময়ের ভালোবাসার মানুষটাকে কোন ভাবেই বন্দি করে রাখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর পরস্পরের প্রতি অনাস্থা মধ্যে কোন প্রতিষ্ঠান স্বাচছন্দে চলতে পারে না। তাই তা এক সময় বিচ্ছেদে রূপ নেয়।


মূলত কোন নরনারীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ও ভালবাসা যখন ফলপ্রসূ হয়ে ওঠেনা তখন সে সংসার জোর করে ঠিকে রাখার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই বরং অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভবনাই থাকে বেশি। এক্ষেত্রে ইসলাম ইনসাফপূর্ণ সমাধান দিয়েছে। দাম্পত্য জীবনে যদি নরনারী সুখী না হয় সেক্ষেত্রে ইসলামে তালাকের বিধান রাখা রয়েছে। কিন্তু তালাকের বিধান পুরুষদের হাতে সংরক্ষিত থাকায় অনেকেই এই বিধানকে বৈষম্য বলে মনে করে থাকেন। কিন্তু কোন নারী যদি তার সঙ্গীর প্রতি যুক্তিসংগত কারণে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন এবং স্বামীর সাথে ঘর সংস্কার করা কোন ভাবেই সম্ভব না হয়ে ওঠে তাহলে তাকে ‘খোলা’ তালাকের অধিকার ইসলাম দিয়েছে। মূলত ইসলাম সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানের অভাবেই আমরা ইসলাম ও ইসলামী বিধান সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে থাকি।


মহান আল্লাহ এ বিষয়ে কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের জন্য হালাল নয় যে তোমরা জোর করে নারীদের (সত্তা বা সম্পদের) উত্তরাধিকারী হবে। আর তোমরা তাদের আবদ্ধ করে রেখো না তাদের যা দিয়েছ, তা থেকে তোমরা কিছু নিয়ে নেওয়ার জন্য। তবে যদি তারা প্রকাশ্যে অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)।


এই আয়াতে প্রমাণিত হয়, স্বামীর অন্যায় আচরণ বা কোনো দোষের কারণে যদি স্ত্রী ন্যায়সংগতভাবে স্বামীর থেকে তালাকের আবেদন করে, সে ক্ষেত্রে স্বামীর উচিত হলো, কোনো বিনিময় ছাড়াই তালাক দিয়ে দেওয়া। আর স্বামী তা করতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী নিজেই খোলা তালাক করে নিতে পারবে যদি যৌক্তিক কারণ থাকে। মূলত ভালবাসা কোন জোর-জবদস্তির নাম নয় বরং পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, আস্থা, প্রীতি ও বোঝাপড়ার মাধ্যমেই প্রেম ও ভালবাসা সফল এবং স্বার্থক হয়ে ওঠে।


চারটি অক্ষরের সমন্বয় খুব ছোট একটি শব্দ ভালবাসা যাকে আরবী ভাষায় মুহাব্বত ও ইংরেজীতে খড়াব বলে। যার অর্থ হচ্ছে, অনুভূতি, আকর্ষণ, হৃদযন্ত্রের টান; যা মানুষের অন্তরে আল্লাহপাক সৃষ্টিগতভাবে দিয়েদন। ইংরেজীতে ভালবাসা সম্পর্কে বলা হয়েছে, Love is a variety of feelings, emotions, and attitude. For some love is more than just being interested physically in someone, it's an emotional attachment. Love is more of a feeling that a person feels for another person. ... The basic meaning of love is to feel more than liking towards someone.


আর পবিত্র ভালবাসা বলতে আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর প্রতি ভালবাসা, সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার ভালবাসা, প্রতিবেশীর প্রতি ভালবাসা স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসা ইত্যাদিকে বুঝায়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সৃষ্টির সেরা মাখলুক হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। এমনকি সর্ব শ্রেষ্ঠ আখেরী নবী মুহাম্মদ (সা.) এর উম্মত আমাদেরকে বানিয়েছেন। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত সর্ব প্রথম এই নিখিল বিশ্বের ¯্রষ্ঠা মহান আল্লাহ তাআলা ও শেষ নবী ও হাবীবে রাসূল মুহাম্মদ (সা.)কে ভালবাসা।


একথা ঠিক যে, মানুষ স্বভাবতই নিজেকে ভালোবাসে। সে তার সৃষ্টিকর্তাকেও ভালোবাসে। হৃদয় ব্যাপক একটি ভুবনে মূলত ভালোবাসা দুটি পর্যায়ে বিভক্ত: একটি হলো স্রষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির প্রেম, অন্যটি হলো সৃষ্টির সঙ্গে সৃষ্টির প্রেম। নিজের প্রতি ভালোবাসার মূল সূত্র ধরেই মানুষ তার বাবা-মা, ভাইবোন, সন্তানসন্ততি, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে ভালোবাসে। স্রষ্টা নিজেও তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসেন এবং সৃষ্টির সেরা জীবের জন্য পৃথিবীকে সুশোভিত করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন এবং তারা আল্লাহকে ভালোবাসে।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৫৪)।


সৃষ্টিজগৎকে না ভালোবাসলে স্রষ্টাকে ভালোবাসা যায় না। মানুষ প্রকৃতিপ্রেমে নিমগ্ন হয়। অনেকে আপনজনহীন হয়েও একদল অনাত্মীয়ের ভিড়ে সারা জীবন কাটিয়ে দিতে পারে। কেউ অসহায় কোনো মানুষ, শিশু বা জীবজন্তুকেও নিঃস্বার্থভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।


হাদিসে রাসুল (সা.) এ বলা হয়েছে, ‘তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। আবার পরস্পরকে ভালোবাসতে না পারা পর্যন্ত ইমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয়ের খবর দেব না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসতে সক্ষম হবে? (তা হলো) তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রচলন করবে।’ (মুসলিম)
মূলত প্রেম-ভালবাসার মাধ্যমে সৃষ্টির ধারাবাহিকতা রক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু সে ভালবাসা মোটেই জবরদস্তিমূলক নয় বরং পরস্পর বিশ্বাস, আস্থা, প্রীতি, অনুরাগ ও বোঝা-পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ভালবাসা কখনো একতরফা হয় না। ভালবাসা তখনই সফল ও স্বার্থক হয়ে ওঠে যখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে প্রীতির সম্পর্ক স্থাপিত হয়।


মতামত
লেখক: শাহনাজ পারভীন শাহীন


(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই )


এএস

Print