সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হলেও দুর্নীতি কমেনি: টিআইবি

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২৪ জুন, ২০১৯ ০০:১১:২৯
#

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হলেও তাদের দুর্নীতি কমেনি। তাদের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে ঠিকই কিন্তু তার বিপরীতে সঠিক জবাবদিহিতা নেই বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।  


আজ (২৩ জুন) রোববার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার: নীতি ও চর্চা’শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসব তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে টিআইবি।


প্রতিবেদনে বলা হয়, “বিভিন্ন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নিজেদের লোককে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদোন্নতি দিতে গিয়ে প্রায়ই জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, মেধাকে অগ্রাহ্য করেন, আবার কর্মকর্তারা পদোন্নতির আশায় রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।”


সেখানে আরও বলা হয়, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে শুধু যোগ্যতা নয়, বরং ক্ষমতাসীনদের পছন্দ প্রাধান্য পাচ্ছে।”


প্রশাসনের রাজনীতিকীকরণের উদ্বেগজনক বৃদ্ধির ফলে পেশাগত উৎকর্ষে ঘাটতির ব্যাপক ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে টিআইবি।


টিআইবি জানিয়েছে, সরকারি চাকরিতে বর্তমানে পদ শূন্য ২৩ শতাংশ। গত ৬ বছরে শূন্যপদের হার ছিল ১৮ থেকে ২৩ শতাংশ।


এজন্য প্রশাসন ক্যাডার হতে টেকনিক্যাল বিভাগের উচ্চপদে পদায়ন না করে টেকনিক্যাল ক্যাডার থেকে পদোন্নতি দেওয়ারও সুপারিশ করেছে টিআইবি।


সরকারী কর্মচারী আইনের কতিপয় মৌলিক ধারার সমালোচনা করে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, “সরকারী চাকরি আইন নামটিই সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এই আইনটির নাম হওয়ার কথা ছিল জনপ্রশাসন আইন। তাই আমরা আইনটির নাম সংশোধনের দাবি জানাই। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফৌজদারী অপরাধে গ্রেফতারের জন্য সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণের বিধিও সম্পূর্ণরূপে সংবিধান পরিপন্থী ও বৈষম্যমূলক। এই বিধিও বাতিল করতে হবে।


এছাড়া এই আইনের ৬.১ ধারায় প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমস্ত কর্তৃত্ব সরকারের কাছেই রাখা হয়েছে, যা ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী’এই সাংবিধানিক অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক।”


এমবি    

Print