হত্যাকারীদের গ্যাং গ্রুপের নাম '০০৭'

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৯ জুন, ২০১৯ ১৪:৪৩:৪০
#

আলাদা একটি গ্যাং গ্রুফ পরিচালনার মাধ্যমে বরগুনার রিফাত শরীফকে হত্যা করা হয়। এই গ্রুফের প্রধান দু্ই হোতা হত্যাকারী নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। গ্রুফটির নাম '০০৭' বন্ড। জেমস বন্ড সিরিজের ০০৭ নামের সঙ্গে মিল রেখে এই নাম রাখা হয়।


বন্ড গ্রুপের প্রধান হলো নয়ন বন্ড। আর তার সহযোগী রিফাত ফরাজী সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে গ্রুপটি পরিচালনা করতো।


এদের ফেসবুকভিত্তিক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ম্যাসেঞ্জারে রিফাত ফরাজী '০০৭ গ্রুপের' সদস্যদের সকাল ৯টায় সরকারি কলেজের সামনে থাকার নির্দেশ দেয় এবং পরিকল্পনামতই তারা পরের দিনে সকালে রিফাত শরীফকে হত্যা করে।


দীর্ঘদিন ধরে এই '০০৭' গ্রুফের সদস্যরা এলাকায় একক রাজত্ত্ব করতো। এমন হীন কাজ নেই যে তাদের সংশ্লিষ্ট্ ছিল না। চুরি থেকে শুরু করে মানুষদের হেনস্তা করা এমনকি ছাত্রদের মেসে ডুকে তাদের মুঠোফোনসহ টাকা পয়সা কেড়ে নিতো।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নয়নের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ০০৭ নামে একটি গ্যাং গ্রুপ কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘির পাড়, কেজিস্কুল ও ধানসিঁড়ি সড়ক এলাকায় এসব অপকর্ম করতো। গ্রুপের সদস্যরা ০০৭ কে সংকেত হিসেবে ব্যবহার করত। ঘাতক নয়নের মোটরসাইকেল এমনকি বাড়ির দেয়ালেও ০০৭ বন্ড লেখা থাকতো।


কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘির পাড়, কেজিস্কুলে তারা ছিনতাইয়ের কাজ করতো। বিশেষ করে পলিটেকনিক কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রদের মেসে এরা নিয়মিত হানা দিয়ে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে টাকা-পয়সা আদায়, ধানসিঁড়ি এলাকায় একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া ছেলে-মেয়েদের অপদস্ত করে টাকা আদায়সহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করার অভিযোগ আছে এই গ্রুপের বিরুদ্ধে।


এছাড়া ২০১৭ সালে রাকিব নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে যখম, পরের বছর ক্রোক এলাকার ফারুক পিয়াদার ছেলে জীবনকে কুপিয়ে জখমসহ বেশকিছু ঘটনার সঙ্গে ০০৭ গ্রুপের সম্পৃক্ততা ছিল। এসব কাজে নয়ন সরাসরি অংশ না নিলেও তার নির্দেশনায় রিফাত ফরাজীর নেতৃত্বে গ্রুপটির সদস্যরা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতো। আর গ্রুপের নেতা নয়ন বন্ড মূলত মাদকব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের সাথেও গ্রুপটির সম্পৃক্ততা ছিল।


রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার আলোচিত এ ঘটনার দু’দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে হতাশা ব্যক্ত করেছে সচেতন মহল।


রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ও র‌্যাব’র একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।


প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১২ আসামির নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা মো. আঃ হালিম দুলাল শরীফ।


হত্যা মামলায় মূল আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড (২৫)। হত্যাকাণ্ডের সময় দূর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে নয়ন বন্ড ও তার প্রধান সহযোগী রিফাত ফরাজীকে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে রিফাতকে কোপানোর দৃশ্য দেখা গেছে। তবে রিফাতের বাবার দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় আরও অনেকে। তারা ঘটনাস্থল বরগুনা কলেজের ভেতর থেকে রিফাতকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে বাইরের রাস্তায় আনে। এ সময় আগে থেকে সশস্ত্র অবস্থায় ওঁৎ পেতে থাকা নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করে। কলেজ থেকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে আনতে গিয়ে রিফাত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।


আলোচিত এ মামলাটিতে ক্রম অনুযায়ী আসামিরা হলো, মো. সাব্বির আহমেদ নয়ন (নয়ন বন্ড) (২৫), মো. রিফাত ফরাজী (২৩), মো. রিশান ফরাজী (২০), চন্দন (২১), মো. মুসা, মো. রাব্বি আকন (১৯), মো. হাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), মো. রায়হান (১৯), মো. হাসান (১৯), রিফাত (২০), মো. অলি (২২) ও টিকটক হৃদয় (২১)। বাকি ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাত আসামি।


জেড

Print