রিফাত হত্যায় জড়িত দুই সন্ত্রাসী আ.লীগ নেতার ঘনিষ্ঠ

বরগুনা করেসপন্ডেন্ট
টাইম নিউজ বিডি,
৩০ জুন, ২০১৯ ১৭:২৯:৪৭
#

প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে তার স্বামী শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফ(২৫) কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দুই নেতার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি এখন বরগুনার মানুষের মুখে মুখে।


আওয়ামী লীগের দুই নেতার একজন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। অন্যজন হলেন স্থানীয় সাংসদের ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডে খুনিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে গতকাল (২৯ জুন) শনিবারও বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।


বরগুনায় ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান তিন আসামির দুজন রিফাত ফরাজী ও তাঁর ভাই রিশান ফরাজী বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের আপন ভায়রার ছেলে। আরেক আসামি সাব্বির জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। সুনাম দেবনাথ বরগুনা সদর আসনের সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে।


জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “কে কাকে শেল্টার দেয়, সেটা আপনারা খুঁজে বের করেন। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”


জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও দলীয় মনোনয়নে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী আত্মীয় হলেও দুই বছর ধরে ওই পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।  


আর সুনাম দেবনাথ বলেন, সাব্বিরের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সখ্য ছিল না। একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।


অবশ্য সাব্বিরের সঙ্গে সুনাম দেবনাথের সখ্যের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। গত বছরের ২৮ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসাইন বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় অভিযোগ করেছিলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী সাব্বির সুনাম দেবনাথের সহযোগী। ২০১৭ সালে ১২ লাখ টাকার হেরোইনসহ সাব্বির পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ওই মামলায় সুনাম দেবনাথের সহযোগিতায় সাব্বির আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।


জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান বলেন, “এক বছর আগে আমি সংবাদ সম্মেলন করে সাব্বিরের এসব অপকীর্তি তুলে ধরেছিলাম। তখন ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা ঘটত না।”


গতকাল (২৯ জুন) বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বরে নিহত রিফাত শরীফের বাবা আ. হালিম দুলাল শরীফ বলেছেন, “সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে মেরেছে, তারা এখনও গ্রেফতার হয়নি। আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাবো না। কিন্তু যে সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।”


গত ২৬ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। তারা চেহারা লুকানোরও কোনও চেষ্টা করেনি।


গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


এই মামলায় এখন পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সাইমুন (২১) নামের এক যুবককে শুক্রবার গভীর রাতে পটুয়াখালী শহরের গার্লস স্কুল সড়কের একটি বাসা থেকে আটক করা হয়েছে।  


তবে মূল আসামি নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও সাব্বিরসহ অন্যদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।  


এমবি  

Print