‌‌‍‍‍ ‍‍“এত করে কলাম মারিস না, ওরা কয় তোর নিস্তার নেই”

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০১ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩১:২৪
#

“এত করে কলাম, আমারে মারিস না। ওরা কয় তোর নিস্তার নেই।” সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ছবিটি। তাতে দেখা যায়, রক্তাক্ত এক কিশোর বসে আছে, তাকিয়ে অপলক দৃষ্টিতে।


হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে দুর্বৃত্তদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেছিল যশোরের ওই কিশোর শাহীন আলম (১৬)। কিন্তু নিস্তার মেলেনি।


যশোরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত অটোরিকশা চালক কিশোর শাহীনের অপারেশন শেষে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শারিরীক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

শাহীনের মা খাদিজা বলেন, ‘শুক্রবার সকালে সাতটার সময়ে শাহীন ভ্যান নিয়ে বাইর হয়ে যায়। দুপুরে গ্রামের মেম্বার ফোন করে শাহীনের কথা জানায়। প্রথমে শুনেছিলাম ও মারা গেছে।


পরে ওরে আমরা খুলনা হাসপাতালে নিয়ে যাই। পথের মধ্যেই বারবার চিল্লায়ে উঠতেছিল, “এত করে কলাম, আমারে মারিস না। ওরা কয় তোর নিস্তার নেই।’”


শনিবার ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার অপারেশন করা হয়। শাহীন এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের বাইরে ঠায় বসে আছেন তার মা মোসাম্মত খাদিজা।


চিকিৎসকরা জানান, শাহীনের মাথায় রক্ত জমাট থাকার আশঙ্কায় তার অপারেশন করা হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এদিকে, কিশোর শাহীনের গ্রামের বাড়ি যশোরের কেশবপুরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা।


শাহীনকে গুরুতর জখম ও তার অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান তারা। পাশাপাশি শাহীনের চিকিৎসায় সরকারের সহায়তা কামনা করেন।


শুক্রবার (৩০ জুন) সকালে যাত্রী পরিচয়ে শাহীনকে ফোন করে ডেকে নেয় কয়েকজন যুবক। পরে সাতক্ষীরা জেলার কাছাকাছি নিয়ে তাকে কুপিয়ে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে গুরুতর অবস্থায় খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।


পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শাহীনের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় একটি মামলা করেন। অটোরিক্সা চালানোর পাশাপাশি শাহীন কেশবপুরের গোলাখালি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে।


এএস

Print