ঢাবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য কর্মসূচির উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০১ জুলাই, ২০১৯ ১৭:৫৬:২০
#

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার ৯৯তম বছরে পদার্পণ করছে। বঙ্গভঙ্গ রদের পরিপ্রেক্ষিত প্রতিষ্ঠিত বাংলার এ প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।


সোমবার (০১ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে কেক কাটা ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।


এসময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ৯৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের বার্তা দেয় যে, যখন ৯৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবো, সেটি আমাদের জন্য গুরুত্ববহ হবে। মূলত সেটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করা হবে। সেটির নাম দেওয়া হয়েছে মুজিববর্ষ ২০২০। একইসঙ্গে ঢাবির ১০০তম জন্মবার্ষিকী যেদিন উদযাপিত হবে, সেদিন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান সুবর্ণজয়ন্তী। সেদিনগুলোর আগমনী বার্তা হিসেবে এ বছরের যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের জন্য ২০২০-২১ এর একটি আগমনী বার্তা।


তিনি বলেন, আমরা এখান থেকে ধারণা করছি, ২০২১ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেমন দেখতে চাই, ২০২০ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা কোথায় নিতে চাই, তার একটি প্রত্যয় ব্যক্ত হবে ৯৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের মধ্য দিয়ে। সে কারণেই এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটিকে সামনে রেখে আমাদের টার্গেট নির্ধারণ করবো। প্রতিবন্ধকতা উত্তরণের উপায় কি, সেগুলো আমরা খুঁজে বের করবো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হয়। এরপর ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘গুণগত শিক্ষা, প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাবি গ্রন্থাগারে দুর্লভ পাণ্ডলিপি প্রদর্শন করা হবে। চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বিকেল ৩টায় অনুষদ প্রাঙ্গণে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের উদ্যোগে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কার্জন হল ভবনের উত্তর-পূর্ব বারান্দায় উদ্ভাবিত চিকিৎসা প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করা হবে।

ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর উদ্যোগে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিং পুলে সাঁতার প্রতিযোগিতা, দুপুর সাড়ে ১২টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র থেকে সাইকেল শোভাযাত্রা এবং বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও ডাকসুর মধ্যে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হল দিনব্যাপী স্ব স্ব কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- কেক কাটা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা, বৃক্ষরোপণ, মিষ্টি বিতরণ ও আলোকসজ্জা।


দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জার ব্যবস্থাসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথে সুসজ্জিত তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।


এসএম

Print