‘মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী তৎপরতার’ অভিযোগের বিরুদ্ধে কোলকাতায় ধিক্কার মিছিল

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৪ জুলাই, ২০১৯ ১৫:০৩:৩৫
#

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ করে সংসদে যে বিবৃতি দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে।


বুধবার (০৩ জুলাই) বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান লেখা সম্বলিত পোস্টার বহন করে মিছিল করেন।


এদিন প্রতিবাদী জনতা ‘মাদ্রাসায় জঙ্গি তকমা মানবো না’, ‘মাদ্রাসা সুনাগরিক তৈরি করে’, মাদ্রাসা শিক্ষা মানবতার শিক্ষা দেয়’, ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ইসলাম সমর্থন করে না’, ‘গেরুয়া তাণ্ডব বন্ধ করো’, গেরুয়া তাণ্ডবের বিরুদ্ধে সরকার নীরব কেন?’, গণপিটুনি জাতীয় অপরাধ, গণপিটুনি বন্ধ করো’ইত্যাদি লেখা সম্বলিত পোস্টার হাতে নিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন। 


এ ব্যাপারে  সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান বলেন, “মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দফতরের পুলিশি রিপোর্ট পেশ করছেন সংসদের মধ্যে! এক আজব ও অসৎ উদ্দেশ্য, ভিত্তিহীন, মিথ্যে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় পেশ করা যায়, প্রকাশ করা যায় এটা স্বাধীন ভারতে ৭৩ বছর পরে প্রথম ভারতবাসী দেখলো যে, মাদ্রাসায় নাকি সন্ত্রাসী কাজ হয়! মাদ্রাসায় নাকি দেশ বিরোধী কাজ হয়! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মোদি সরকারের জানা দরকার এ ধরণের ভিত্তিহীন, মিথ্যে রিপোর্ট বিগত দিনেও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র দফতর কিংবা পুলিশ কখনও প্রমাণ করতে পারেনি যে দেশের কোনও মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী কাজ হয়।”


মুহামাদ কামরুজ্জামান বলেন, “বর্ধমানের খাগড়াগড় মাদ্রাসার বিরুদ্ধে একসময় মিথ্যে অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আজও পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি যে ওই মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হয়েছে। তা সত্ত্বেও একইভাবে রাষ্ট্রীয়গত ভাবে, সরকারিভাবে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ নিয়ে আসা হচ্ছে। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতের সুনাগরিক তৈরি করে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো গর্বের সঙ্গে ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করে, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করে।


সেই মাদ্রাসাগুলোকে সন্ত্রাসের আতুরঘর হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবো, প্রয়োজনে দিল্লির যন্তর মন্তরে জমায়েত ও সংসদ ভবন ঘেরাও করে মোদি সরকারের কাছে কৈফিয়ত চাইব। এর জবাব দিতে হবে, কেন তারা মাদ্রাসাকে অপমান করল?”  


“আমরা প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হব যে একটা সরকার সাধারণ পুলিশের ঠুনকো রিপোর্টকে অবলম্বন করে তারা তা সংসদে পেশ করে গোটা বিশ্বে মিথ্যে বার্তা তুলে ধরতে পারে কি না, মোদি সরকারকে এর জবাব দিতে হবে”বলেও সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান মন্তব্য করেন।   


কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি পশ্চিমবঙ্গের দুই বিজেপি এমপি খগেন মুর্মু ও সুকান্ত মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার (০২ জুলাই) সংসদে জানান, “গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী জেএমবি (নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন) বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের কিছু মাদ্রাসাকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্র ভর্তি করে তাদের মগজধোলাই করে জিহাদের মন্ত্রে দীক্ষিত করার কাজ চলছে। গোয়েন্দা তথ্য রাজ্যকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।”


স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।


এমবি  

Print