মিজানের দেহরক্ষী ও গাড়িচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০৬ জুলাই, ২০১৯ ২১:৪৬:২১
#

ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের দেহরক্ষী ও গাড়ির চালককে আগামীকাল (০৭ জুলাই) জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


মিজানুরের দেহরক্ষী হৃদয় হাসান এবং গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেনকে আগামীকাল (৭ জুলাই) রোববার দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টচার্য।


গত ০১ জুলাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত না হওয়ায় ওইদিন ডিআইজি মিজানুরকে ফের আগামী ০৮ জুলাই উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি দেওয়া হয়।  


সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদে দেখানো হয় যে, দুর্নীতির এক মামলা থেকে রেহায় পেতে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ করেন মিজান।


দুদকের তদন্ত কমিটির মতে, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পুলিশের উচ্চপদস্থ এই কর্মকর্তা অবৈধভাবে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অর্জন করেছেন।


উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়। নারী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।


দুদক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজানকে সাময়িক বরখাস্তের একটি প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। পরে ২৫ জুন মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।


অন্যদিকে, মিজানের ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। যদিও নারী নির্যাতন, ঘুষ প্রদান, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে দুই বছর ধরে মিজানুরের নাম আলোচনায় এলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।


২৪ জুন ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগনে পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মাহমুদুল হাসানকে আসামি করা হয়।


এমবি   

Print