মৃত্যুর পরও মিলছে না হরিজনদের শেষ ঠিকানা

লালমনিরহাট করেসপন্ডেন্ট
টাইম নিউজ বিডি,
০৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:৫১:১২
#

সমাজে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত একটি জনগোষ্ঠী যারা সুইপার বা হরিজন নামে পরিচিত। এই হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের মৃত্যুর পরেও মিলছে না তাদের সমাধির স্থানটুকু।


লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় হরিজন জনগোষ্ঠী বংশ পরম্পরায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে যাচ্ছেন। ১৮টি পরিবারের মোট ৮৭ জন মানুষ এ উপজেলায় বসবাস করছেন।


এ সম্প্রদায়ের মানুষরা মারা গেলে নির্দিষ্ট স্থানে সমাহিত করার জন্য নেই কোনো জায়গা। তাই হরিজন সম্প্রদায়ের মরদেহ নিয়ে করুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সমাধির স্থান না থাকার কারণে বিভিন্ন জায়গায় বা নদীর পাশে অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে মরদেহ সমাহিত করতে হচ্ছে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজনদের।


হাতীবান্ধার হরিজন সম্প্রদায়ের উজ্জল বাসঁফোর জানান, বাবা শ্রী মদন লাল বাসঁফর ১৯৯৯ সালে মারা যায়। সমাধির স্থান না থাকার কারণে মুসলমানদের কেন্দ্রীয় কবর স্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছিল। ওই সময় এ সমাহিত করার বিষয় নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়ি। সমাহিতের তিনদিন পর সেই মরদেহ আবার কবর থেকে তুলে রেল-লাইনের ধারে পুনঃরায় সমাহিত করতে হয়েছিলো।


হাতীবান্ধা হরিজন গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে জুয়েল কুমার বাসঁফোর বলেন, সরকার সমাজে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সমাধির স্থান নিয়ে সমস্যায় আছি। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ইউএনও’র নিকট আবেদনও করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি তিনি একটু আন্তরিক হলে আমাদের সমাধির স্থানের সমস্যার সমাধান সহজে হয়ে যাবে।


হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন বলেন, আমাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। কোনো প্রকার সরকারি বরাদ্দ আসলে হরিজনদের দীর্ঘদিনের সমাধির সমস্যাটি আশা করছি সমাধান হবে।


নুরনবী/এমবি    

Print