ভোট বাতিল করে অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০৯ জুলাই, ২০১৯ ০১:২৬:৩৩
#

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।


সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত করে নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে জনগণের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করেছে বর্তমান সরকার। আমরা ফ্যাসিবাদী স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের এই ভয়াবহ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।


সেইসঙ্গে জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্ট ও সরকার গঠনের লক্ষ্যে অবিলম্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাচ্ছি।”


মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রায় ভেঙে পড়েছে। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার লক্ষ্যে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করছে অত্যন্ত সুচতুরভাবে। খায়রুল হকের রায়ের মধ্য দিয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে নির্বাচনকালীন তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন করেছে।”


তিনি বলেন, “একে একে সংবিধানের গণতান্ত্রিক বিধানগুলোকে বাদ দিয়ে সংশোধনী এনে একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার মারাত্মক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এমনকি বিচার ব্যবস্থাকে আজ সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। ফলে জনগণের শেষ আস্থা ও আশ্রয়স্থল সেই বিচার বিভাগেও আজ মানুষ ন্যায়বিচার বঞ্চিত হচ্ছে।”


বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত রায়ে পরিষ্কারভাবে এই কথা বলেছেন যে, বিচার ব্যবস্থা দলীয়করণের শিকার হয়েছে এবং জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিম্ন আদালতে আইন মন্ত্রণালয়ের নিরঙ্কুশ প্রভাব নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচার তিরোহিত হচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিলুপ্ত হচ্ছে। উচ্চ আদালতেও এর প্রভাব আমরা দুঃখজনকভাবে দেখতে পাচ্ছি।”


এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিচারপতি সিনহাকে বল প্রয়োগের মাধ্যমে অপসারণ ও দেশত্যাগে বাধ্য করার ফলে ভীতি সর্বগ্রাসী হয়েছে এবং দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের কারণে পরিস্থিতির গুরুত্বর অবনতি ঘটেছে। দেশনেত্রীর মামলায় এই বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।”


এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবদীন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবদিন মেজবা, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ। 


এমবি  

Print