ডিজিটালাইজড করাতে সরকারের দুর্নীতি কমে যাচ্ছে: জয়

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১০ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৫৮:৩০
#

সবকিছু ডিজিটালাইজ করাতে সরকারের দুর্নীতির সুযোগ আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমরা কিন্তু আসলেই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বানাতে পারি। সবকিছু ডিজিটালাইজ হয়ে গেলে দুর্নীতির সুযোগ থাকে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।


বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ : সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি। সংসদ সচিবালয় আয়োজিত এ কর্মশালায় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।


বাংলাদেশে বিদেশিদের বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র বলেন, গ্লোবালাইজেশনের যুগে আমরা নিজেদের আলাদা করে রাখতে পারি না। আমাদের অর্থনীতিকে আরও ওপেন করতে হবে। আমাদের নিজেদের মাইন্ডসেট একটু চেঞ্জ করতে হবে। পরিবর্তন আনতে হবে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় বিদেশিরা ব্যবসা করতে পারে। তাতে তাদের অর্থনীতির লাভ হয় । আমাদেরও কিন্তু সেদিকে যেতে হবে। সরকার কিন্তু সম্পূর্ণ তা পারে না। সরকারের সবকিছু সিস্টেম লস হয়। প্রাইভেট সেক্টরে কিন্তু তা হয় না। এ জন্য আমাদের নীতিমালা ও আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন।


তিনি বলেন, আমাদের দেশের টেলিকম সেক্টরে বাইরের কিন্তু অনেক কোম্পানি আসতে চায়। বাংলাদেশ ইনভেস্ট করতে চায়। তবে আমাদের অনেকের মধ্যে একটি ধারণা রয়ে গেছে যে, বিদেশি কোম্পানি এসে খালি নিয়ে যায়। আজকে যদি বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে না আসতো, আমরা থ্রিজি, ফোরজি বাস্তবায়ন করতে পারতাম না। তারা কিন্তু শুধু দেশ থেকে নিয়ে চলে যায় না। তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।


সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে জয় বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশনের ১০ বছর হয়েছে। আপনাদের হয়তো একটু জানা উচিত যে, অগ্রগতি কী, আমাদের দেশে এখন কী কী আছে? কী কী সুযোগ সুবিধা আছে? কী কী করা যায়? কী কী সম্ভব? আপনার নতুন নতুন আইন করবেন। পলিসি করবেন। তাই একটু জানাতে চাই। ২০০৮ সালে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন প্রকাশ করি, তখন বাংলাদেশের ডিজিটাল বলতে তো কিছুই ছিল না। তখন যদি কোনো সরকারি কাগজের প্রয়োজন হতো, অফিসে অফিসে যেতে হতো। অথবা অফিসে গিয়ে বসে থাকতে হতো। ফরমের জন্য বসে থাকতে হতো।


তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের যদি কোনো ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন নিতে হতো, সেই অন্য শহরে গিয়ে ফর্ম নিয়ে আসতে হতো, ফর্ম ফিলাপ করে আবার জমা দিতে হতো। আজকে এসব আপনার মোবাইলে পাওয়া যায়। আমরা যে ১০ বছরে এসব করতে পেরেছি, তা খুব কম দেশেই হয়েছে। অন্যান্য দেশ প্রায় ৩০ বছর এটা করতে পেরেছে।


গত ১০ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ফাইবার কিলো বসানো হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত আমরা ফাইবার নিয়ে গেছি।


সংসদ-সদস্যদের অনুরোধ করে তিনি বলেন, আপনারা যথন বিভিন্ন ডিজিটাল প্রজেক্ট দেখতে যাবেন বা অনুমতি দেবেন তখন একটু মনে রাখবেন- আগে যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই যে করতে হবে, তা নয়। নতুন ডিজিটাল পদ্ধিতিতে যাতে হয়, সেটা একটু নজর রাখবেন।


জেড

Print