অজুহাত দেখাবেন না, গ্যাসের দাম কমান : রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১০ জুলাই, ২০১৯ ২০:৪৯:১৮
#

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কোনো অজুহাত দেখাবেন না, গ্যাসের দাম কমান। অন্যথায় রাজপথে নেমে জনগণ দাবি আদায় করে নেবে।


বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।


তিনি বলেন, 'গ্যাসে এ মুহূর্তে কোনো ভর্তুকি নেই। এলএনজি আমদানি করে তার ভর্তুকি দেয়ার জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং তাদের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন এলএনজি আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ মেটাতে জনগণের ঘাড়ে গ্যাসের দাম চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।


রুহুল কবির রিজভী বলেন, পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিতে ভর্তুকি দেয়া হয়। সরকার ভর্তুকি দেয় জনগণের টাকায়। কারণ এই ক্ষেত্রগুলোতে ভর্তুকি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসসহ জীবনযাত্রার মান সহজ ও স্বস্তিদায়ক রাখা হয়।


সরকারের জবাবদিহি না থাকায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মন্তব্য করে রিজভী বলেন, কোনো দায়বদ্ধতা না থাকায় একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা। শুধু সাধারণ মানুষের গায়ের ঘাম ঝরানো অর্থ লুণ্ঠনের জন্য গ্যাসের দাম বাড়িয়ে নাভিশ্বাস পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।


চীন থেকে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন- ‘উন্নয়ন পেতে হলে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিতে হবে। এখন যে পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে, তার পরও বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে।’


সরকারের উন্নয়ন বুলির আড়ালে লুটপাটের মহোৎসব চলছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, উন্নয়নের কথা বলে জনগণের পকেট কেটে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের আর ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতাকারীদের পকেট ভারী করা হচ্ছে। 


গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের পকেট কাটছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, গণবিরোধী সরকারের হিসাব খুবই সোজা। তারা চুরি করবে আর ক্ষতির টাকা জনগণের পকেট থেকে উসুল করে নেবে। গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে আট হাজার কোটি টাকা নেয়া হচ্ছে। 


রিজভী বলেন, গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। বিশ্ববাজারে দরপতনের এই সময়ে বাংলাদেশের গণবিরোধী সরকার গ্যাসের দাম গড়ে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্পে বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। সার উৎপাদনে বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। ফলে জীবনযাত্রা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে অস্থির অবস্থা।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।


এমআর

Print