অরিত্রীর আত্মহত্যা : অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিচার শুরু

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১০ জুলাই, ২০১৯ ২২:০৫:৩০
#

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় করা মামলায় কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখা প্রধান জিন্নাত আরার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হলো।


আজ বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ অভিযোগ গঠন করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. সালাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তিনি বলেন, ‘আজ এ মামলায় আসামিরা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।‘


পিপি বলেন, ‘আগামী ২৭ অক্টোবর এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ ছাড়া শুনানির সময় কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখা প্রধান জিন্নাত আরা আদালতে হাজির ছিলেন। তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন।’


গত ২০ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী কামরুল ইসলাম ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিন্নাত আরার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


অপরদিকে অভিযোগপত্র প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার অব্যাহতির আবেদন করা হয়। পরে তাঁকে অব্যাহতি দেন সিএমএম আদালত।


২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর অরিত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী। মামলায় আসামি করা হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখা প্রধান জিন্নাত আরা ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে।


এরপর শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করা হলে ঢাকার সিএমএম আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। পরে ১৪ জানুয়ারি অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখা প্রধান জিন্নাত আরার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী।


এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর পরীক্ষার হলে নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন পান এক শিক্ষিকা। মোবাইল ফোনটি রেখে দিয়ে তিনি অরিত্রীর বাবা-মাকে নিয়ে পরের দিন আসতে বলেন। পরের দিন সোমবার বাবা-মাকে নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেন বাবা দিলীপ অধিকারী। পরে বাসায় গিয়ে অরিত্রীর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।


এদিকে, এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, তাঁর মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক দায়ী।


এমআর

Print