'রিকশা উচ্ছেদ নয় , ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ চাই'

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১০ জুলাই, ২০১৯ ২৩:১৮:০৩
#
ঢাকা শহরের অধিকাংশ যাতায়াত স্বল্প দূরত্বের আর সল্প দূরত্বে বিরতীহীনভাবে যাতায়াতের জন্য রিকশা হচ্ছে সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয় বাহন। রিকশা জ্বালানীমুক্ত , পরিবেশবান্ধব , নিরাপদ বাহন এবং এর মাধ্যমে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পরিবহণ খাতে পাবলিক পরিবহণ ও জ্বালানীমুক্ত পরিবহণের উপর গুরুত্বারােপ ও প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণের দাবীতে মানববন্ধন করেন ড্রিম বাংলাদেশ এবং সম্মিলিত কয়েকটি সংগঠন।

বুধবার (১০ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ড্রিম বাংলাদেশ, বায়োস্কোপ বাংলাদেশ, ইউথ সান, তারুণ্য ৭১ সহ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে "রিকশা নয়, ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ চাই" শীর্ষক মানববন্ধনে তারা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে তারা বলেন, সাশ্রয় , নিরাপদ , দূষনমুক্ত যাতায়াতের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতে রিকশা বিশেষ ভূমিকা রাখছে। রিকশা দেশের পরিবহণ খাতে প্রতি বছর ৫ হাজার কোটি টাকা জ্বালানি তেলের সাশ্রয় করছে। অযান্ত্রিক যান রিকশা এতােটাই পরিবেশবান্ধব যে প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি টাকার পরিবেশের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

গবেষণা সংস্থা হিউম্যান রিসাের্স সেন্টার ( এইচডিআরসি ) এর সমীক্ষায় দেখা যায় বাংলাদেশ বিমান , রেল , সড়ক ও নৌপরিবহণ খাতে বছরে যাত্রী পরিবহণের সামগ্রিকভাবে যতাে টাকা আয় করে তার চেয়ে রিকশা এককভাবে বেশি অর্থ আয় করে। শুধুমাত্র ঢাকার রিকশা চালকরা প্রতি মাসে ২শ কোটি টাকা গ্রামে পাঠান। রিকশা এতটাই পরিবেশ বান্ধব যে , বছরে এই বাহন ১০ হাজার কোটি টাকার পরিবেশের ক্ষতি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে।

মানববন্ধন থেকে আরও বলা হয়, নিউমার্কেটে রিকশা বন্ধ করে দিয়ে এখানে প্রায়ই দুই লেন ধরে প্রাইভেট কার পার্কিং করা হয়। যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ৩০ - ৪০ হাজার রিকশায় কয়েক লক্ষ মানুষ যাতায়াত করত তা এখন বন্ধ করে দিয়ে ৫০ থেকে ১০০ টি প্রাইভেট কার পার্কিং এর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আর এর জন্য গাড়ি প্রতি মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা দিলেই যথেষ্ট। শহরের কেন্দ্রস্থলে বিশাল ভর্তুকি প্রাপ্ত এই পাকিং ব্যবস্থা শুধুমাত্র উচ্চবিত্তরাই ভােগ করছে। রিকশা চালকদের কোটি টাকার ক্ষতি এবং নারী , শিশু , বৃদ্ধ , অস্যদের দর্ভোগ সৃষ্টি করে মাত্র কয়েক হাজার টাকা পার্কিং চার্জ আদায় নগরের সামাজিক ভারসাম্যতা নষ্ট করা হচ্ছে।

কারফ্রি সিটি’স এলায়েন্স বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক শান্তনু বিশ্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ডব্লিউবিবি ট্রাষ্টের প্রোগ্রাম ম্যনেজার (এইচ আর, এনসিডি) সৈয়দা অনন্যা রহমান, প্রজেক্ট অফিসার আতিকুর রহমান, ড্রিম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাখিল খন্দকার, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক বরণী দালবতসহ প্রমুখ।

শান্তনু বিশ্বাস বলেন, ঢাকা শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে প্রাইভেট কারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে যাতায়াত, সামাজিক, পরিবেশগত সমস্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়া স্বত্ত্বেও একের পর এক ঢাকার সড়ক থেকে রিকশা বন্ধ করা হচ্ছে। পরিবেশ, জ্বালানী, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চলাচলের সুযোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী রিক্সা চলাচলের জন্য পৃথক লেন তৈরির নির্দেষ দিয়েছেন। তবে কবে বাস্তবায়ন হবে এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

এসএম/এমআর

Print