পরীক্ষার হলে থেকেও হত্যা মামলার আজগুবি আসামি!

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১১ জুলাই, ২০১৯ ১৯:২২:১৯
#

‘মিথ্যা মামলা’ বললেই সবকিছু স্পষ্ট হয়না। মিথ্যা মামলার আরেক সংস্করণ ‘গায়েবি মামলা’, যা এবার জাতীয় নির্বাচনের আগে বেশ আলোচিত ছিল এ ধরনের মামলা গুলো।


সেই রকম ঘটনার সম্মুখীন ইমরান হত্যা মামলার আজগুবি আসামি! ঘটনায় নেই, তবুও আছে মামলায়। এক-দু’জন নয় একাধিক ব্যক্তির নামে। 


শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন সরদারকান্দি গ্রামে ইমরান হোসেন সরদার (৩৫) নামে গত (২২ জুন) দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়।


ওই ঘটনায় ইমরানের বোন রেশমা বেগম ৪৫ জনকে আসামী করে গত ২৪ জুন নড়িয়ায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত (৫ জুন) এ মামলার প্রধান আসামী নুরুজ্জামান হাওলাদারকে ঢাকাথেকে গ্রফতার করেন পুলিশ। পরে তাকে আদলাত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


মামলায় বাদি রেসমা এজহারে বলেন, গত (২২ জুন) শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে। পথ রোধ করে মাঝিরহাট নামক স্থানে মহাসড়কের কাছে কবরস্থানের পাশে পৌঁছালে তাকে (আসামীদের নাম উল্লেখ করে বলেন,) কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। আমি সকল দোষীদের বিচার চাই।


এ মামলার আসামী নসাশন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিমেল অভিযোগ করে বলেন, আমি ভার্সিটিতে বিকাল ৫ থেকে ৬ঃ ৩০ পরীক্ষার হলে ছিলাম। আমি কি করে গাবতলী থেকে ২ ঘন্টায় শরীয়তপুর এসে ইমরান সরদারকে হত্যা করি? 


আমি দীর্ঘ ৯ বছর ধরে নসাশন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি ও ঢাকা পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ছিলাম। আমি নড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।এ মামলা মিথ্যা ও ষরযন্ত মুলক।


তিনি বলেন, মুজিবের আদর্শের একজন সৈনিক, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের স্নেহভাজন একজন কর্মী। আমার পড়াশোনা ও আমার পরিবারের রাজনীতি নষ্ট করার জন্য আমাকে এই মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়েছেন, নশাসনের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার তালুকদার। আমি এর সঠিক বিচার চাই।


অভিযোগ উঠেছে এ মামলার সত্যতা নিয়েও? 


মামলা আরেক আসামী সাংবাদিক সোহাগ বলেন, ঈদের ছুটির পর আমি নিজ কর্মস্থল ঢাকাতে চলে আসি। ঘটনার দিন আমি ঢাকাতে নিজ কর্মস্থলে ছিলাম। জানিনা কেন আমাকে মিথ্যা মামলার আসামী করা হলো। এবং আমার অফিস হাজিরা শীটে আমার কর্মস্থলে উপস্থিতি রয়েছে। 


আশা করি তদন্ত প্রতিবেদনের পর মামলার চার্জশিটে আমার নাম অন্তভূক্ত থাকবে না। আমি চাই সঠিক তদন্ত হউক আর দোষীদের শাস্তি হউক।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ঘটনা ঘটেছে রাতের অন্ধকারে। কে বা কারা করেছে তা আমরা শুনিনি এবং দেখিওনি। তবে তার বিরুদ্ধে (নিহত ইমরান) অনেক অভিযোগ রয়েছে।


মামলার প্রধান আসামী নুরুজ্জামান হাওলাদারের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী ঘটনার দিন ঢাকায়ই ছিলেন সে কি করে ইমরানকে হত্যা করলেন। আমার স্বমীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, হয়রানি করার জন্যই এ মামলা দায়ের করেন সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার তালুকদার।


গত, বুধবার দুপুরে ইমরান হত্যা মামলার আসমী বিঝারি উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন রতনের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। সুমাইয়া, মৌ আক্তার ও অপুসহ শিক্ষার্থীরা জানায়, আমাদের জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক রতন স্যার। স্যারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই আমরা। এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলনে যাব আমরা।


এএস

Print