ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস দিচ্ছি, জনগণকে চাপ দিচ্ছি না

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১২ জুলাই, ২০১৯ ১৩:৪৮:০০
#

বিরাট অঙ্কের টাকা ভুর্তকি দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করছি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি কিন্তু জনগণের ওপর চাপ দিচ্ছি না বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাসের মূল্য নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কেন মূল্যবৃদ্ধির দরকার হলো, তা তুলে ধরতে চাই। আমাদের নিজস্ব কিছু প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। আমাদের চাহিদা ছিল ৩৭০০ এমএমসিএফটি কিন্তু সরবরাহ করা যাচ্ছিল মাত্রা ২৬০০ এমএমসিএফটি। এই ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এলএনজি আমাদানির সিদ্ধান্ত নেই। এর অংশ হিসেবে ১০০০ এমএমসিএফটি এলএনজি গ্যাস আমদানি শুরু করেছি। আমাদের নিজস্ব যে প্রকৃতিক গ্যাস রয়েছে, তার প্রতিঘনমিটারে উৎপাদন খরচ হয় ৭ দশমিক ৫০ টাকা। সেখানে আমদানি করা এলএনজির খরচ পড়ে ৩৩ দশমিক ৭৫ টাকা। এজন্য প্রতিবছর আমাদের ৩০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আমাদের ৭৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটা করা হয়নি। আমাদের প্রতি ঘনমিটারের এলএনজি আমদানির মূল্য পড়ছে ৬১ দশমিক ১২ টাকা। কিন্তু সেখানে আমরা নিচ্ছি ৯ দশমিক ৮০ টাকা। অর্থাৎ ৫১ দশমিক ৩২ টাকা আর্থিক সহায়তা করা হচ্ছে। ফলে এর জন্য ১৯ হাজার ৩১০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এটাও আবার সব ধরনের ট্যাক্স আর শুল্ক বাদ দিয়ে।’


তিনি বলেন, ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর দরকার হলেও ২৩ দশমিক ৮০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। যারা বিরোধিতা করছেন, বাস্তবতা না বুঝেই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন।


তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসের বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য পেট্রোবাংলা ১০২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি প্রস্তাব করেছিল। কারণ এলএনজি আমাদানি খুবই ব্যয়সাপেক্ষ। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন তার মূল্যায়নে বলেছে, বর্ধিত ব্যয় নির্বাহে কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন ছিল। সেখানে আমরা কতটুকু বাড়িয়েছে? গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বিবেচনা করে কমিশন মাত্র ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এদিকে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় মিনিমাম চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। গ্যাস ব্যবহারের হিসাব নির্দিষ্ট রাখতে ইবিসি মিটার দেওয়া হবে। এতে বিল পরিশোধ সহজ হবে।’


জেড

Print