দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠছে উজিরপুরের ‘শাপলার বিল’

মোরশেদ মুকুল
টাইম নিউজ বিডি,
২২ অক্টোবর, ২০১৫ ২০:৩৬:৪৫
#

বরিশাল সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রাম ও পাশের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা ও খাজুরিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে নামহীন এ বিল।


আগাছা আর লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র লাল শাপলা। নাম না থাকা এ বিলের হাজারো লাল শাপলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। এরসঙ্গে সুর্য্যের সোনালি আভা শাপলা পাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এর সৌন্দর্য। বিলের যতো ভেতরে এগুতে যাবেন ততোই লালের আধিক্য।


একসময় মনে হবে শাপলার রাজ্যে বন্দি হয়ে আছেন আপনি। আশপাশ দিয়েই একটু পরপরই শাপলা গাছ ও আগাছা ঠেলে নৌকা নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। এদের অনেকেই বিল থেকে শাপলা তুলে জমা করছেন নৌকায়। কেউবা মাছ শিকারে ব্যস্ত। এ বিলের শাপলা দিয়ে অনেকেই সাবলম্বী হয়ে উঠছেন।


এখন অনেকেই বিল থেকে শাপলা তুলে তা বিক্রি করছেন স্থানীয় বাজারে। মাছ শিকার করেও চলেন অনেকে। মনোমুগ্ধকর এ বিল দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন। ফলে দিন-দিন এ এলাকার এক দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠছে ‘শাপলার বিল’।


এ বিলে তিন ধরনের শাপলা জন্মে। লাল, সাদা ও বেগুনি রঙয়ের। তবে বিলে লাল শাপলার আধিক্য বেশি। সাদা শাপলার কদর বেশি। লাল শাপলার কদর থাকলেও এটি রান্না করতে অতিরিক্ত ঝামেলা পোহাতে হয়। লাল শাপলা সরাসরি রান্না করার পরেও কিছু কালচে রং থাকে। তাই রান্নার আগে এটিকে সিদ্ধ করে নিতে হয়।


আগে এ বিলে প্রচুর শাপলা জন্মালেও এখন আগের মতো অবস্থা নেই। দিন-দিন পলি পড়ে বিল ভরাট হতে থাকায় পানি কমে যাচ্ছে, ফলে আগের চেয়ে কমে যাচ্ছে শাপলার উৎপাদন। এছাড়া বিলের বিভিন্ন অংশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে শাপলার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তবে বিলের মাছ চাষের স্থানে শাপলা জন্মালেও সে শাপলা তুলে আনতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।


বিল সংলগ্ন গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরের একটা বড় সময় তারা অনেকেই এই বিলের শাপলার ওপর নির্ভরশীল। এভাবেই জীবিকা নির্বাহ করছে এ এলাকার কয়েকশ পরিবার। এদের কেউ শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করেন, কেউ বিল থেকে মাছ শিকার করেন। স্থানীয় কয়েক কৃষক জানান, কিছুদিন ধরে কেউ ‍লাল শাপলা তুলছে না। তাই লাল শাপলা এতো বেড়ে গেছে। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এসে এখানকার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখছেন।


এমএ

Print