দেশের মোট পাঁচ ভাগের একভাগ গম উৎপাদন ঠাকুরগাঁওয়ে

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
টাইম নিউজ বিডি,
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:৩০:৩৭
#

খরচ কম, পরিবেশ আবহাওয়া ও মাটির গুনাগুণ গম চাষের উপযোগী হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে অন্যান্য বারের মতো এবারো লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত গমের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গমের বাম্পার ফলন হয়েছে । ভাতের পরেই বাংলাদেশে খাদ্য চাহিদা মেটায় আটা ও ময়দা। আর এগুলো আসে গম থেকে। আমাদের দেশে শীতের প্রকোপ বেশী থাকায় অগ্রহণের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত গম রোপণ করা হয়।


কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি গম চাষ মৌসুমে এই জেলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫৯ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৬৮ হাজার ৫শ হেক্টরে। যাতে ফলন আসবে হেক্টর প্রতি সাড়ে ৩ মেট্রিক টন অনুযায়ী প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত গম বীজ বপন করা যায়। তবে আগাম আবাদে ফলন ভালো হয় বলে জানান চাষিরা। দেরিতে বীজ ফেললে ফলন অর্ধেকে নেমে আসে। যারা দেরিতে গম ফেলেছেন তাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।


বারি ২৬,২৭,২৮,২৯,৩০ জাতের গম চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বিএডিসি এসব জাতের উন্নত বীজ সরবরাহ করছেন কৃষককে। ফলে খুব বেশি বীজ নিয়ে সমস্যা নেই। সমস্যা নেই রাসায়নিক সারের। তবে চাষিরা বলছেন গোবর বা জৈব সার ব্যবহার করতে পারলে জমিতে বেশি ফলন পাওয়া যায়। জেলার প্রায় ১৪ হাজার অগভীর নলকূপ গমে সেচের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বরেন্দ্র প্রকল্পের ৭শ ১২টি গভীর নলকূপের বেশির ভাগ অকেজো পড়ে রয়েছে। ফলে এইসব টিউবওয়েল এলাকায় তেমন চাষাবাদ হচ্ছে না।


মিলন পুরগ্রামের কৃষক আশরাফুল জানান, আমাদের আবহাওয়া গমের জন্য উপযোগী গমের ফলন ও ভাল হয় তাই গম আবাদ করি। প্রচুর লাভবান হই আমরা, তাই আমরা সবাই গম আবাদ করি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরশেদ আলী খান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের প্রায় ৪০ হাজার কৃষক গম চাষ করেন। বেশিরভাগ কৃষক মনে করেন গম চাষ লাভজনক ফসল। এবারো লাভ ভালো হবে বলে তারা আশা করেন। একর প্রতি ফলন আবাদ ভেদে ৩০ থেকে ৭৫ মন। তবে গড় আবাদ একর প্রতি ৫০ মনের ওপরে। এবার সরকার কৃষকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়ে গম কিনলে লাভ বাড়তে পারে


 


জেএইচ

Print