পরিবেশ রক্ষায় ঢাকার মসজিদের ভূমিকা

এম এন জোবাইর
টাইম নিউজ বিডি,
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১২:৪৫:৩৫
#

মসজিদ মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান এবং ইসলামি সমাজের প্রাণকেন্দ্র। সাধারণভাবে মসজিদ মুসলমানদের ইবাদতের স্থান হিসেবে পরিগণিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এর কার্যক্রম ব্যাপক ও বিস্তৃত। মসজিদ একাধারে মুসলমানদের ইবাদত, শিক্ষা ও সংস্কৃতির উৎস। সেই সাথে মসজিদ আরেকটি বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে, সেটা হচ্ছে পরিবেশ রক্ষায়।


বস্তুত ইসলামি সমাজব্যবস্থা মসজিদকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। রাসূল (সা.) বলেন, ‘উৎকৃষ্টতম বসার স্থান হলো মসজিদ’। মসজিদে মুসলমানরা শুধু ইবাদতই করে না বরং ধর্মীয় আইন-কানুন, মাসয়ালা অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।


পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এককাতারে সবাই দাঁড়ানোর কারণে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধের সৃষ্টি হয়। এখানে বৈষম্যের কোনো সুযোগ থাকে না। মসজিদে পারস্পরিক সালাম, কুশল ও শ্রদ্ধা বিনিময় হয়।


বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা:
মুসলিম সমাজ আবর্তিত হয় মসজিদকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের যেখানে রয়েছে মুসলমানের বাস সেখানেই গড়ে উঠেছে মসজিদ। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বিশ্বে মোট মসজিদের সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মসজিদ রয়েছে ভারতে।


১২০ কোটির জনসংখ্যার প্রতিবেশি এই দেশটিতে মসজিদের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। আর যেখানে ১৬ কোটির এই বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা আড়াই লাখের বেশি। ২০০৮ সালে পরিচালিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬টি।


রাজধানী ঢাকায় মসজিদের সংখ্যা:
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ জরিপ অনুযায়ী ঢাকা শহরের মসজিদের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৭৭৬টি। যদিও এই সংখ্যা বর্তমানে কিছুটা বাড়বে। যেহেতু এই জরিপটি করা হয়েছিল বেশ কিছু বছর আগে।


ঢাকায় কত মানুষের বসবাস:


১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্যকে ভিত্তি ধরে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (নিপোর্ট) জ্যেষ্ঠ গবেষক সুব্রত ভদ্র বলেছেন, বর্তমানে ঢাকা মেগাসিটির জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের কিছু বেশি। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ঢাকা মেগাসিটি এলাকার জনসংখ্যা ছিল ৬৪ লাখ ৮৭ হাজার। ২০০১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায়, জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার। ২০১১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৭২ হাজারে। বছরে ৬ লাখ ২৯ হাজারের মতো মানুষ বাড়ছে।


ঢাকায় প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে ১৭০০ মানুষ:
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই মেগাসিটিতে দিনে মানুষ বাড়ছে ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি। অর্থাৎ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় প্রতিদিন নতুন করে বসবাসের জন্য যুক্ত হচ্ছে ১৭০০ জনের মত মানুষ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের পরিসংখ্যান উঠে আসে।


ঢাকাবাসীর জন্য গণশৌচাগারের সংখ্যা:
দেড় কোটিরও বেশি ঢাকাবাসীর জন্য গণশৌচাগারের সংখ্যা মাত্র ৬৯টি বা তার হয়ত একটু বেশি। অর্থাৎ সোয়া ২ লাখ মানুষের জন্য গণশৌচাগার শধুমাত্র একটি। যেটা কখনো পর্যাপ্ত নয়।


পরিবেশ রক্ষায় মসজিদ:
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মসজিদের নগরী ঢাকাতে পর্যাপ্ত মসজিদ রয়েছে। আর এসব মসজিদে প্রতিদিন অনেকেই ইস্তিঞ্জার জন্যে এসব মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করে থাকেন। ঢাকার কয়েকটি মসজিদের খাদেমের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময়ে মুসল্লিদের ছাড়াও প্রতিদিন অন্তত ৫০ থেকে ১০০জন টয়লেট ব্যবহার করে থাকেন। আবার কোন কোন মসজিদে এর কয়েকগুন সাধারণ মানুষ এসব টয়লেট ব্যবহার করেন।


যদিও অসংখ্য পথচারী রাজধানীর অনেক জায়গায় যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করেন। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে মলমূত্রের জীবাণুর কারণে।


আর এমতাবস্থায় যদি টয়লেট ব্যবহারে এসব মসজিদের ভূমিকা না থাকত, তাহলে রাজধানীর পরিবেশের একটা বিশাল ক্ষতি হতো। এরই সাথে পরিবেশ নষ্ট হবার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ত সবখানে।


পরিশেষে আমরা বলতেই পারি, মসজিদ ইবাদতের স্থান হিসেবে পরিগণিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এর কার্যক্রম ব্যাপক ও বিস্তৃত। আর বিশেষ করে পরিবেশ রক্ষায় ঢাকার মসজিদের ভূমিকা অপরসীম।


 

Print