বিলুপ্তির পথে ক্ষিপ্রগতির বণ্যপ্রাণী চিতা

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০২ জানুয়ারি, ২০১৭ ১২:২৫:৩৯
#

আন্তর্জাতিক শ্রেষ্ট গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ক্ষিপ্রগতির জন্য বিখ্যাত বণ্য প্রাণী চিতাবাঘ এখন অনেকটাই বিলুপ্ত হবার পথে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হচ্ছে প্রাণীটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে দিন দিন কমে আসছে।


গবেষণাটির হিসেব অনুসারে, পুরু বিশ্বজুড়ে বনে আর জঙ্গলে এখন মাত্র ৭ হাজার ১শ'টি দ্রুতগামী চিতা টিকে আছে।


তথ্যমতে, ৭৭ শতাংশ চিতা বসবাস করছে বন্যপ্রাণীদের জন্য সংরক্ষিত এলাকার বাইরে। যার কারণে মানুষের হাতে বারবার পড়ছে এগুলো। এছাড়াও দিন দিন মাঠ আর বনগুলো মানুষ বসতি স্থাপন ও কৃষিকাজের জন্য দখল করতে থাকায় একদিকে যেমন চিতাদের বাসস্থান কমছে, তেমনি যথেষ্ট শিকার পাচ্ছে না তারা। আর এ কারণেই বিপদে পড়ে গেছে বিশ্বের দ্রুততম এই স্তন্যপায়ী প্রজাতি।


গবেষকরা এইসব দিক বিবেচনা করে চিতাবাঘকে জরুরি ভিত্তিতে 'নাজুক' থেকে 'বিপন্ন' প্রজাতির প্রাণীর শ্রেণীতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বে যে পরিমাণ চিতা টিকে আছে অর্ধেকের বেশি আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি দেশ জুড়ে বসবাস করে। আর এশিয়ার কথা যদি বলা হয় তাহলে বলায় বাহুল্য এ মহাদেশ থেকে চিতাবাঘের অস্তিত্ব প্রায় মুছেই গেছে।

আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে বিগত ১৬ বছরে চিতাবাঘের সংখ্যা ১ হাজার ২শ’ থেকে কমে মাত্র ১৭০-এ দাঁড়িয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রাণীগুলোর আবাসস্থল ও শিকারের ভূমি দখল।


গবেষণাটির প্রধান জুয়োলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডন-এর ড: সারাহ ডুরান্ট বলছেন, "গোপনে থাকার স্বভাব এই প্রাণীটির। যার ফলে এ প্রাণী সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। আর এ কারণেই তারা যে হারিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়গুলোও চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে"।


বাসস্থান এবং খাদ্যসংস্থান ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে চিতাশাবক পাচার ও চামড়ার জন্য চিতাবাঘ হত্যা প্রাণীটিকে বিপন্ন প্রজাতিতে পরিণত করার পেছনে অনেক বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে জানাচ্ছেন ড: ডুরান্ট।


এমএনজে


 

Print