মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা আসলে এই দু'টি কথা ভাবুন!

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:৪২:৩৩
#

আতমহত্যা প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। হতাশা থেকেই এই প্রবণতা। রাজধানীতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। শোবিজ অঙ্গনেও এই প্রবণতা বাড়ছে।


প্রতিটা ধর্মে আত্মহত্যাকে পাপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি 'মাহতাব হোসেন' নামের একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারী আত্মহত্যার বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস লিখেছেন, শিরোনাম ছিল 'তনিমার সুইসাইড নোট ও আদীবার আত্মহত্যা'


তার লেখাটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো


আদীবা নামের একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আসলে সম্ভাবনাময়ী মেয়ে কোনো মানুষ আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিলে খুব অসহায় লাগে। আদীবাকে আমি চিনতাম না তেমন। ফেসবুকে চঞ্চল টাইপের ছবি টবি দিতো।


প্রাণচঞ্চলই মনে হতো। ফেসবুকে একবার শুধু কথা হইছিল-
-শুভ জন্মদিন
-থ্যাংক ইউ
-ভালো থাকবেন
-:)


এই ইমোটার মানে সম্ভবত সমর্থন দেওয়া। আদীবা ভালো থাকার সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু...
'তনিমার সুইসাইড নোট' লিখেছিলাম। একটা মেয়ের লাইফে ৩ বার প্রেমে চূড়ান্তরকম ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার গল্প নিয়ে। মেয়েটা গলায় দঁড়ি দেওয়ার পরও একটা মোবাইল মেসেজ থেকে সচকিত হয়ে সিদ্ধান্ত পালটে ফেলে। নিজের জীবনের মূল্য বোঝে। প্রতিটা প্রেম ও প্রতারিত হবার ঘটনা ছিল একেকটা কেস স্ট্যাডি। কেন তনিমার সুইসাইড নোটের প্রসঙ্গটা আনলাম?


এই গল্পটা যখন লিখি তখন দুই ধাপে বন্ধু আপেল মাহমুদের সাথে পরামর্শ করি। আমার গল্পটা ছিল মর্মস্পর্শী। মরে যাওয়ার পরে একটা আবেশ থেকে যাবে। আপেল বলল মরে যাওয়া যাবে না। পজেটিভ করেন। আত্মহত্যার মতো বিষয়গুলো থেকে ছেলেমেয়েরা যাতে বেরিয়ে আসতে পারে, জীবনের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ তৈরি হবার পরেও যেন বেঁচে থাকার আগ্রহ পায় এজন্য আমাদের কাজ করতে হবে। মনে হলো -আসলেই তো। লিখলাম। পজেটিভ।


পরে সেটা তো এনটিভিতে নাটক হয়ে প্রচারও হলো। আমরা চেষ্টা করেছি, এখনো করছি। বোঝাতে চাই আপনার প্রাণটা এতোদিন ধরে আপনার প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার জন্য বরাদ্ধ ছিল না যে গলায় দঁড়ি দিয়ে দেবেন।


জন্ম নেওয়ার সময় মা'কে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়ে জন্ম নেবেন আবার নিজের কষ্ট লাঘব করতে তাদের আগেই মরে গিয়ে ভয়ানক কষ্টের মধ্যে ফেলবেন, এটা কেমন কথা?


আপনার প্রাণের,জীবনের মর্টগেজ বাবা মা'র কাছে। তাদের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে হবে প্রাণ, বেঁচে থাকতে হবে।


মাহমুদ

Print