ওয়ান ডে সিরিজ খেলবেন না মাশরাফি!

আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে খেলতে নাও পারেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা। ২২ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওই সিরিজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তিনি সম্ভবত ওই সফরে যাবেন না।

বাংলাদেশের নির্বাচকরা অবশ্য শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন বলে ক্রিকেটের সুপরিচিত ওয়েবসাইট ইএসপিএন-ক্রিকইনফো জানিয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাত্রা করবে।

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন ইএসপিএনক্রিকইনফোকে বলেন, ওডিআই সিরিজে মাশরাফির সম্পৃক্ততা সন্দেহের মধ্যে আছে। গত রাতে আমি তার সাথে কথা বলেছি। তার স্ত্রী সত্যিই অসুস্থ। আমার মনে হচ্ছে না যে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেতে সক্ষম হবেন।

তবে স্ত্রীর অবস্থা উন্নতি হলে মাশরাফি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যেতেও পারেন। তবে তিনি যদি না যেতে পারেন, তবে সাকিব আল হাসান ওডিআই সিরিজে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন।

এদিকে মঙ্গলবারের ট্রেনিং সেশনের সময় থেকে অ্যাঙ্কল ইনজুরিতে পড়েছেন সাইফুল ইসলাম। ফলে তাকে দ্বিতীয় টেস্টে সম্ভবত খেলানো যাবে না। বৃহস্পতিবার জ্যামাইকাতে ওই টেস্ট শুরু হচ্ছে।

বাংলাদেশ দলে মাত্র চারজন ফাস্ট বোলার আছেন। তার মানে হচ্ছে, তারা পেস অ্যাটাকে কোনো পরিবর্তন আনতে পারছেন না। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ইনিংসের ব্যবধানে হেরেছিল।

মাত্র দু’দিন ও এক সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ইনিংস ও ২১৯ রানের বড় ব্যবধানে এন্টিগা টেস্ট হেরেছে সফরকারী বাংলাদেশ দল। শুধুমাত্র হারের ব্যবধানই লজ্জা দিচ্ছে না টাইগারদের। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪৩ রানেও গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে এন্টিগা ম্যাচের স্মৃতি ভুলে আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া কিংস্টন টেস্টে ঘুড়ে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ভালো করতে চায় টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি।

গেল জুনের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব নেন ইংল্যান্ডের সাবেক খেলোয়াড় স্টিভেন রোডস। তার অধীনে নতুন স্বপ্ন নিয়ে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করার ইচ্ছা ছিলো বাংলাদেশের। কিন্তু বিধিবাম। নতুন কোচের অধীনে নিজেদের প্রথম টেস্ট ম্যাচেই লজ্জার রেকর্ড গড়ে টাইগাররা।

এন্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার কেমার রোচের ৫ উইকেট শিকারে ৪৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এটিই সর্বনিম্ন রান হিসেবে রেকর্ড বইয়ে লিপিবদ্ধ হয়। প্রথম ইনিংসের ভুলগুলো দ্বিতীয় ইনিংসেও শুধরিয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে প্রথম ইনিংসের চাইতে কিছুটা হলেও মুখ রক্ষা হয়েছে টাইগারদের।

দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৪ রান করতে পারে তারা। অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়েছিলো বাংলাদেশ। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টে ৬৪ রানের ইনিংস না খেললে এখানেও ১’শর নীচে গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়েছিলো সাকিব আল হাসানের দল।

দায়িত্বপূর্ণ হাফ-সেঞ্চুরিতে দলকে আরও লজ্জার হার থেকে তো রক্ষা করেছেনই, তার উপর হারের ব্যবধানও কমিয়েছেন সোহান। বোলিং-ও যুতসই হয়নি। তাই প্রথম ইনিংসে ৪০৬ রানের বড় সংগ্রহ দাড় করাতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সব মিলিয়ে পুরো টেস্টে যাচ্ছেতাই খেলেছে বাংলাদেশ। এমনটা ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি বলেন, ‘প্রথম টেস্টে আমরা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই পিছিয়ে ছিলাম। ফলে ম্যাচে লড়াই করাটা আমাদের জন্য কঠিনই ছিলো।

আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে তিন বিভাগেই হেরে গেছি আমরা। এই কন্ডিশনের মানিয়ে নেয়া কঠিন হবে, জানতাম। পরের টেস্টের জন্য নিজেদের ভালোভাবে প্রস্তুত হতে হবে। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে আমাদের।’

প্রথম টেস্ট বাজেভাবে হেরে অনুতপ্ত সাকিব। তার পথেই হাঁটলেন দলের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। এমন হারের কোনো প্রকার অজুহাত দেখাননি তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তামিম বলেন, ‘আমাদের শেষ টেস্ট ম্যাচটি আপনাদের জন্য যেমন বিস্ময়ের ছিল, আমাদের জন্যও তাই ছিল। আমরা এর চেয়ে অনেক ভালো দল। যে ধরনের পারফরমেন্স করেছি, তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন দলের ভেতর যে আবহ আছে, আমরা কোনভাবেই অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করছি না। আমরা আশা করছি, পরের টেস্টে ভালো কিছু করবো।’

বাজেভাবে এন্টিগা টেস্ট হারলে সেখান থেকে আত্মবিশ্বাস খোঁজার চেষ্টা করলেন তামিম, ‘আমাদের দলের সবার জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো, বিশ্বাসটা ধরে রাখা যে- আমরা ভালো খেলতে পারি। বিশ্বাস করতে হবে যে, আমরা বড় স্কোর গড়তে পারি। শেষ টেস্ট ম্যাচে সোহান যেভাবে ব্যাট করেছে, লোয়ার-অর্ডার যেভাবে করেছে সেটি ভালো ছিলো।

আর এটাই প্রমান করে যে, উইকেটে সময় কাটাতে পারলে উইকেট যতই কঠিন হোক না কেন রান করা যায়। আশা করি, জ্যামাইকায় আপনারা ভালো টেস্ট দেখবেন বা আমরা ভালো ম্যাচ উপহার দেয়ার চেষ্টা করবো।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। সবগুলোই দুই ম্যাচের। এরমধ্যে ২০০৯ সালের সফরে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিলো বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হারে টাইগাররা।